সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি : ঢাকা- ১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা টায় দোহারে লটাখোলা দলীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল থাকাকালে আওয়ামী শোষণের নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডসহ সমগ্র ইউরোপে আন্তর্জাতিক লবিং করেন। তিনি বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকাটি প্রবাসী অধ্যূষিত এলাকা। এখানে নেই তেমন কোন শিল্প-কারখানা বা পরিকল্পিত নগরায়ন। জাতীয় রাজনীতির অনেক বিখ্যাত জন, এলাকার প্রতিনিধি হয়ে এলেও, হয়নি জনগণের জীবন-মান উন্নয়নে কাংখিত পরিবর্তন। তাই, আধুনিক, পরিকল্পিত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের দোহার-নবাবগঞ্জ বিনির্মাণ অধরাই রয়ে গেছে। কাঙ্ক্ষিত, দেশ সেরা উপজেলা
হিসেবে দোহার নবাবগঞ্জ গড়তে না পারার মূলে রয়েছে সততা, আন্তরিকতা, জনগণের নিকট স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অভাব ও প্রতিটি কাজের পরকালীন জবাবদিহিতার ভয় না থাকা। এছাড়াও, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাজনীতিকে স্বজনপ্রীতি করা ও প্রশ্রয় দেয়ায় দোহার ও নবাবগঞ্জে শান্তি-শৃংখলা বার বার বিঘ্নিত হয়েছে। তাই, রাজনীতিতে টাকা ও ক্ষমতার দাপট থাকলেও, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণ এখন এমন নেতাকে খুঁজছে, যিনি সৎ, দক্ষ, শিক্ষিত ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি আরো বলেন, একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি ঘরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি মানবিক, উন্নয়নমুখী, আধুনিক, পরিকল্পিত, সুখী, সমৃদ্ধ ও প্রবাসী বান্ধব এবং নারী-সহযোগী সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করছি।
এসময় তিনি দোহার নবাবগঞ্জবাসীর উন্নয়নে ১৪টি দফা তুলে তুলেন।
১. প্রবাসী সহায়তায় সেল, পরিবারকে সুরক্ষা প্রদান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং বিদেশ যেতে প্রতারণা রোধ করা হবে।
২. নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তাঃ নারীর স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেমন প্রতিটি গ্রামে নারী উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিনা খরচে সেলাই, কম্পিউটার – ফ্রি ল্যান্সিং, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরকে সক্রিয় করা, নারী উদ্যোক্তার জন্য সরকারি অনুদান ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান।
৩. স্বাস্থ্যসেবা: দুই উপজেলার সরকারি হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করণসহ সকল টেস্ট সরকারি হাসপাতালে নিশ্চিত করা, সরকারি হাসপাতালে ২৪/৭ টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া।
৪. শিক্ষা: দোহারে একটি পলিটেকনিক ও নবাবগঞ্জে নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা। অনার্স কলেজগুলোতে মাস্টার্স কোর্স চালু করা।
৫. অবকাঠামো ও পরিবহনঃ মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রস্তাবিত মেট্রোরেলের স্টেশন দোহার-নবাবগঞ্জ পর্যন্ত নিয়ে আসা, দুই উপজেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা।
নারিশা, মৈনটে, বাহ্রা এবং বান্দুরা, নবাবগঞ্জ, কোমরগঞ্জ, কৈলাইলে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ করা। দোহার পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বর্জ্য থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদনের জন্য ETI সেণ্টার স্থাপন
৬. তাঁত, কৃষি, মৎস্য ও কর্মসংস্থানঃ সরকারি সার-বীজ প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে, দোহার ও নবাবগঞ্জে তাঁত বোর্ড ও ওয়েভার এসোসিয়েশনের বেদখল সম্পত্তি উদ্ধার করা ।
৭. দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব এবং সুশাসনঃ দুই উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্য উন্মুক্ত তথ্য সেণ্টার সেবা চালু করা হবে। সরাসরি যোগাযোগে “হ্যালো এমপি ২৪/৭ হেল্প লাইন চালু”, ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানি ও বার্ষিক উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি নাগরিককে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃস্টান অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে নয় বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে সম-অধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
৮. কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়নঃ সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র TTC স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, যেন প্রবাসে বৈধ ও সরকারিভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দোহার নবাবগঞ্জের তরুণেরা যেতে পারে। নিজ উদ্যোগে দুই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন।
৯. শ্রম কল্যাণ – শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদান, সরকারি বিভিন্ন অনুদান ও ভর্তুকি তাদের মধ্যে সুষমভাবে প্রদান। হাসপাতালে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা। ১০. নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাঃ পদ্মা, ইছামতি, কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা। নদী ভাংগনে দরিদ্র, ভূমিহীন, অসহায় দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর জন্য সরকারি বরাদ্দ ও অনুদান বৃদ্ধি করা।
১১. সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ঐতিহ্য সংরক্ষণঃ প্রতি বছর দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিণ্টন প্রতিযোগীতায় ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রিমিয়ার লীগ চালু করা হবে। প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। দোহার-নবাবগঞ্জের “কায়কোবাদ লোকসংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র” স্থাপন। এছাড়াও, “প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক শিল্পকলা একাডেমীকে” স্থাপন করে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা অবৈধ দখলদারমুক্ত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, মাদকাসক্ত পূনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা। নিয়মিত নারীদের জন্য “গ্রামীন নকশী কাথা ও পিঠা উৎসব” আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ।
১২. ডিজিটাল ও স্মার্ট দোহার-নবাবগঞ্জঃ কেন্দ্র ঘোষিত “পাহারাদার” এপসের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র সম্প্রসারণ। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা ভিত্তিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরকারি অনুদান, বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক ই-সেবা কেন্দ্র চালু করা।
১৩. সমৃদ্ধ দোহার ও নবাবগঞ্জঃ কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ, শিকারিপাড়া, কৈলাইল, মৈনট, বাহ্রা, নারিশা ও আড়িয়াল বিলে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
১৪. আমার সেবা কেন্দ্র: সকল জনগণের জন্য ২৪/৭ হেল্পলাইন নম্বর, প্রতিমাসে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে ১(এক) বার মতবিনিময় করা হবে। এ সময় তিনি অঙ্গীকার করেন যেখানে থাকবে সুশাসন, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা ও ন্যায়প্রায়ণতা সেখানে আমি কাজ করবো। পরিবর্তনের পথে, উন্নয়নের যাত্রায় ভোট হোক ইনসাফের দাঁড়িপাল্লায়। ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।